বুলবুল আহমেদ
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
পৌরশহরের ফুটপাত দখল মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে নেত্রকোনা জেলার পৌর প্রশাসন তারি অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছেন পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা।
রাত ৮টার দিকে তিনি পায়ে হেঁটে শহরের ছোট বাজার, বড় বাজার, মেছুয়া বাজার, কালেক্টরেট স্কুলের সামনের সড়ক এবং গার্লস স্কুলসংলগ্ন গলিসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ফুটপাত, ড্রেন ও সড়কের ওপর দোকানের মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনার চিত্র দেখতে পান তিনি।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমানার বাইরে শোকেস, ফলের পসরা, টুল ও অন্যান্য মালামাল রেখে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে রেখেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক এসব মালামাল দ্রুত সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাইকিং করে ফুটপাত ও সড়ক দখল না করার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সচেতন করেন।
অভিযানকালে মুনমুন জাহান লিজা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, প্রথম দিনে তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। তবে বুধবার থেকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রাখা অবৈধ স্থাপনা ও মালামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুটপাত বা সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ইজারা দেওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানান পৌর প্রশাসক। তবে প্রকৃত ও অসহায় হকারদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হবে না। হকারদের জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বাজারের ভেতরে নির্দিষ্ট খালি জায়গায় বিকল্পভাবে বসার ব্যবস্থা করা হবে।
পৌর প্রশাসক বলেন, এক দিনের অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি শহরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, একইভাবে ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধেও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
পৌর প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নেত্রকোনা শহরের যানজট কমার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও স্বাভাবিক হবে মনে করছেন সুধী সমাজ।
