নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা পৌরসভার বাহিরচাপড়া এলাকায় আদালতের আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও একটি জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকিরা মৌজার মোট ১ একর ৬৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে ৪৩ শতাংশ জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে এবং তৎকালীন মালিক মরহুম ওয়াহেদ আলীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট ১ একর ২০ শতাংশ জমি নিয়ে বর্তমানে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস নং-১৭৪৫, বিআরএস দাগ নং-২২৭৯ এবং আরএস/আরওআর দাগ নং-২০৬৩।
বাদীপক্ষের দাবি, জমিটি নিয়ে দায়ের করা মামলায় আদালত ১৪৫ ধারার আদেশ বহাল রেখেছেন। মামলার নম্বর ৭৮৬/২০২৫।
এদিকে বিবাদীপক্ষের করা সংশোধনী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনা ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা নং-১২৬/২০২৫-এ আংশিক আদেশ দেন। আদালত সংশোধনী দরখাস্তের ৩(১১), ৩(১৮), ৩(১৯), ৩(২০) ও ৩(২৩) নম্বর দফাগুলো মঞ্জুরযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন এবং ওই দফাগুলো বাদ দিয়ে বাকি অংশ আংশিকভাবে মঞ্জুর করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আদালতের বিদ্যমান আদেশ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সালিশের মাধ্যমে জমি দখলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে জমির মালিক ও মামলার বাদী মোঃএমরান বাশার, যিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে বেঞ্চ অফিসার হিসেবে কর্মরত, মামলার দেখভালের জন্য পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল মিয়াকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।
বাবুল মিয়ার অভিযোগ, বিবাদীপক্ষের কয়েকজন লোক তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *