মো: আল ইমরান
স্টাফ রিপোর্টার

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় ৪১ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছেন মো: আবুল কাশেম। ১২ বছর বয়স থেকেই পত্রিকা বিক্রয় শুরু,পারিবারিক ভাবেই তিনি এ ব্যবসায় জড়িত।আবুল কাশেমের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলা সদর রাজপাড়া এলাকায়। বয়স ৫৩ বছর। আজকে গরম খবর আছে’ বলেই পাঠকের হাতে এগিয়ে দেন পত্রিকা।

রবিবার (২৬ জুলাই ২৬)দুপুর ১২:০০ ঘটিকার সময় পূর্বধলা বাজার স্টেশন রোড বি এন পির মোড় নামক স্হানে আকরাম হোসেন রতন এক গ্রাহকের কাছে তার দোকানে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা দিতে আসেন আবুল কাশেম। অসুস্হ্য শরীর নিয়ে কেন পত্রিকা বিলি করতে আসছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,মার্চের ১৬ তারিখ সি এন জি দিয়ে নেত্রকোনা থেকে পূর্বধলায় আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শরীরে ও পায়ে আঘাত পায়। চার মাস বাসায় থেকে চিকিৎসা নেই।অনেক টাকা খরচ হয়।পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস আমার পত্রিকা বিক্রির উপর। অনেক দিন কর্মহীন থাকায় পরিবার চালাতে সমস্যা হচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে ক্রাচ ভর করেই পত্রিকা বিক্রয় করতে হচ্ছে।

এভাবেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পূর্বধলায় পত্রিকা বিলির কাজ করছেন তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে শেষ হয়। এরপর পত্রিকা বিক্রির টাকা তোলা শুরু করি। টাকা তুলতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হাঁটাহাঁটি হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় পত্রিকা বিলি করতে সমস্যা হয় কি না, তা জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন,সমস্যা হয় তারপরও পেটের দায়ে কর্ম চালিয়ে যেতে হয়। যত দিন শরীর ভালো থাকবে,তত দিন এই কাজ চালিয়ে যাব।১৯৮৪ সাল থেকে আবুল কাশেমের এই ব্যবসার যাত্রা শুরু।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সকলেই লেখা পড়ায় অধ্যয়নরত।

আবুল কাশেম বলেন,বর্তমানে ছাপা পত্রিকার পাঠক কমে গেছে,মাল্টি মিডিয়া ও অনলাইনে নিউজ আসাতে। এখন প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ কপি পত্রিকা বিক্রয় করি। কমিশনে পত্রিকা আনি,না বিক্রয় করতে পারলে অনেক লস হয়। বর্তমানে যে আয় হয় তা দিয়ে চলা অনেক কষ্ট হয়।

তিনি বলেন,এক সময় পত্রিকার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতো আর বর্তমানে জোর করে অনেক সময় পত্রিকা বিলি করতে হয়।মানুষ এখন আগের মতন পত্রিকা ক্রয় করতে আগ্রহী না। তাই এ পেশায় যারা জড়িত তাহারা কেউ বর্তমানে ভাল নেই।

আবুল কাশেম বলেন,রোদে পুরে,বৃষ্টিতে ভিজে আমরা গ্রাহকের কাছে সংবাদ পত্র পৌঁছে দেই,তাই আমরা যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছি তাদের জীবন মান উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করবো এগিয়ে আসার জন্য।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *