আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহে পালিত হয়েছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬।

রবিবার (১২জুলাই) সকাল ১১টায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ভাষা শহিদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম হুমায়ুন কবির সরকার। উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জাকির হোসেন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিচালক মো: মাজহারুল হক চৌধুরী। এছাড়াও সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা ফাতেমা জান্নাতুল ফেরদৌসসহ ময়মনসিংহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বলেন, দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়। যদি জনসংখ্যার অপরিকল্পিত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এটি বোঝায় পরিণত হবে। তাই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাই দেশের সম্পদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মমেকহা এর পরিচালক বলেন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজটি দলগত প্রচেষ্টার ফসল। মাঠ পর্যায়ের বিশাল কাজের সফল বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

প্রধান অতিথি বলেন, আজকে এখানে অনেকেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পুরস্কার জিতেছেন, বাকিদেরও চেষ্টা করতে হবে। ভালো কাজ মানে মনের সান্ত্বনা, সাথে স্বীকৃতি তো আছেই। আমাদের শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা জরুরি। নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা আরো ভালো কিছু করতে চাই এ দেশের মানুষের জন্য। বাংলাদেশে বিশ কোটি জনগণের চল্লিশ কোটি হাতকে পুরোপুরি কর্মক্ষম করার পূর্ব পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তা না হলে অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত না হয়ে জনদূর্ভোগে পরিণত হবে। সুস্থ, শিক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও পরিকল্পিত পরিবারই হোক আগামীর ভবিষ্যৎ।

সমাপনী বক্তৃতায় সভাপতি বলেন, পরিবার পরিকল্পনার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের দৌড়গোড়ায় এমনকি বাড়ির রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে সেবা দিয়ে থাকে। শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, উঠান বৈঠক, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে পরিবার পরিকল্পনা। সুস্থ পরিবার, সুস্থ দেশ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা ময়মনসিংহ বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *