সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল

জামালপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী বা নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে পশু কেনাবেচার জন্য শহরের বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে দূরবর্তী হাটে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

একসময় জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট বসত। স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সেটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পশুর বাজার। কিন্তু বহু বছর আগে সেই হাট বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত পৌর এলাকায় বিকল্প কোনো হাট গড়ে ওঠেনি। ফলে শহরের মানুষকে পশু ক্রয়ের জন্য পাশের জেলা শেরপুরের ব্রিজ সংলগ্ন গো-হাটাসহ বিভিন্ন দূরবর্তী বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়। কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জামালপুর-শেরপুর সেতুতে অতিরিক্ত যানবাহন ও মানুষের চাপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেতুতে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও দড়ির সাহায্যে সেতুর নিচে নেমে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমন দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

শুধু দুর্ভোগই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জামালপুর শহরের বিপুলসংখ্যক ক্রেতার চাপকে কেন্দ্র করে শেরপুরের ওই হাটে গরুপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা করে ইজারা বা রসিদ ফি আদায় করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নানা গুঞ্জন রয়েছে যে, এ ব্যবস্থার পেছনে কিছু সুবিধাভোগী মহলের স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, জামালপুর পৌর এলাকার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং পশুর চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল গরু-ছাগলের হাট স্থাপন করা সময়ের দাবি। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নিয়মিত হাট চালু করা হলে শহরবাসীর দুর্ভোগ কমবে, সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং পৌরসভাও রাজস্ব আয় করতে পারবে।

সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। জামালপুর শহরে একটি পরিকল্পিত সাপ্তাহিক গরু-ছাগলের হাট প্রতিষ্ঠা শুধু নাগরিক সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্যাপশন: গেল ঈদুল আজহায় শেরপুর ব্রীজের দু:সহ যানজটে নাকাল জামালপুর শহরের কোরবানীর পশু ক্রেতা-বিক্রেতাগণ।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *