বুলবুল আহমেদ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অবসর বিনোদনে সময় কাটায়, ঠিক সেই বয়সেই আত্মশক্তি, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নেত্রকোনার শিক্ষার্থী শ্যামা আচার্য্য চৈতী। স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে তিনি যোগব্যায়াম বা ইয়োগা চর্চাকে শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাসেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন প্রশিক্ষক হিসেবেও। তার এই ইতিবাচক উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নারায়ন আচার্য্যের কন্যা শ্যামা আচার্য্য চৈতী বর্তমানে এইচএসসি ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষায় অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ইউগা চর্চার মাধ্যমে নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার এক নীরব আন্দোলনে যুক্ত রেখেছেন তিনি।
চৈতী জানান, পরিবার বিশেষ করে মা-বাবার উৎসাহ এবং নিজের গভীর আগ্রহ থেকেই তার যোগব্যায়ামের যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে বিষয়টিকে পেশাগত দক্ষতায় রূপ দিতে তিনি “ইন্টারন্যাশনাল ইউগা টিচার্স ট্রেনিং কোর্স ২০০০” সম্পন্ন করেন। এছাড়াও ভারতের ব্যাঙ্গালোর থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগব্যায়াম মানবদেহের হরমোন নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, মানসিক চাপ হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ডায়াবেটিস, থাইরয়েড জটিলতা, স্থূলতা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে নিয়মিত ইউগা চর্চা করলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে, শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের মেটাবলিক কার্যক্রম উন্নত হয়।
একান্ত সাক্ষাৎকারে শ্যামা আচার্য্য চৈতী বলেন,
“ইউগা শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক ভারসাম্যেরও একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন। বর্তমানে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি, অবসাদ ও শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। আমি মনে করি, সঠিকভাবে যোগব্যায়াম চর্চা করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ইউগা প্রশিক্ষণ ক্লাস চালু করা সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ইউগা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে দেশের তরুণ সমাজকে আরও কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসচেতন করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এই তরুণ প্রশিক্ষক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় শ্যামা আচার্য্য চৈতীর মতো তরুণদের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সুস্থ জীবনধারার দিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
নিজের বার্তায় তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন নিয়ে বাঁচতে হলে নিয়মিত যোগব্যায়াম চর্চার বিকল্প নেই।”
নেত্রকোনার এই তরুণীর স্বপ্ন, একদিন যোগব্যায়াম শুধু ব্যক্তিগত অনুশীলন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারে স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *