নিজস্ব প্রতিবেদক
হিজলা

বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর লঞ্চঘাট থেকে টেকের বাজার যাওয়ার একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি যেন একেকটি মিনি পুকুরে পরিণত হয়। ফলে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেমানিয়া ইউনিয়নের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুর লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। অন্যদিকে টেকের বাজার এলাকার একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে বর্তমানে এই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য: রাস্তা খারাপ হওয়ায় টেকের বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে পণ্য আনা-নেওয়া করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। ঝুঁকিতে রোগীরা কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ​শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি: স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের জুতো-জামা কাদাপানিতে ভিজিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এই মরণফাঁদে পরিণত হয়ে থাকলেও এটি সংস্কারের জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় বারবার সড়কটি পাকাকরণ বা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লঞ্চঘাট থেকে নেমে এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে হেঁটে বা ভ্যানে করে বাজারে যাওয়া এখন এক প্রকার শাস্তি। বর্ষা এলে তো কথাই নেই, কাদার জন্য হাঁটাও যায় না। আমরা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই, ​এলাকাবাসীর দাবি, মেমানিয়া ইউনিয়নের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং জনস্বার্থে দুর্গাপুর লঞ্চঘাট থেকে টেকের বাজার পর্যন্ত জরাজীর্ণ সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *