নিজস্ব প্রতিবেদক

​বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার প্রায় দুই লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং তীব্র জনবল সংকটে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা উল্টো নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

হাসপাতাল চত্বরে পা রাখলেই নাকে আসে উৎকট দুর্গন্ধ। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পেছনের অংশে এবং করিডোরের কোণায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য চিকিৎসা বর্জ্য। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকলেও তার সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে থাকায় মলমূত্র জমে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে খোলা জায়গায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেখানে ধুলোবালি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব নিত্যদিনের সঙ্গী। চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে সুস্থ হতে এসে গন্ধে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। বাথরুমে যাওয়ার কোনো পরিবেশ নেই। বেডগুলোর চাদর পর্যন্ত নিয়মিত পরিবর্তন করা হয় না।” এছাড়া ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটছে, যা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালটিতে অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসক সংকট। জানা গেছে, বর্তমানে মাত্র একজন ডাক্তার দিয়েই চলছে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ইনডোর—সবখানেই রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

​এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, “হাসপাতালটিতে চরম ডাক্তার সংকট রয়েছে। আমি বহুবার বরিশাল জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে চিকিৎসক নিয়োগের আবেদন জানিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। এমন পরিস্থিতিতে আমি নিজেও সাধ্যমতো রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সটির সংস্কার, চিকিৎসক নিয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।,

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *