আশেক মাহমুদ শাকিল
বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল তার নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এই সীমান্ত জনপদে কোনো গুন্ডামি বা চাঁদাবাজির ঠাঁই হবে না।’
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হালুয়াঘাট পৌর বাজারের মহিলা মার্কেট চত্বর ও উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত পৃথক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ এলাকায় ফিরে স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি এই বক্তব্য দেন।
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে সালমান ওমর বলেন, ‘কেউ যদি চাঁদাবাজি করতে আসে, সে যে দলেরই লোক হোক না কেন, তাকে বেঁধে রেখে আমাকে খবর দেবেন। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া হবে চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা। ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে এবং নিশ্চিন্তে তাদের ব্যাবসা পরিচালনা করবেন।’
যারা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করে আসছিল, তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গুন্ডামি অনেক দেখিয়েছেন, আমার সঙ্গে গুন্ডামি দেখিয়ে লাভ নেই। অনেক বড় বাধা পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছি। সময় আছে, আপনারা ভালো হয়ে যান। কাল থেকেই নিয়ত করে ফেলুন যে চাঁদাবাজি-ধান্ধাবাজি ছেড়ে দেবেন।’
এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা। এছাড়া বিদ্যুতের ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। আমার প্রথম কাজ হবে এই রাস্তাঘাটগুলোর উন্নয়ন করা এবং বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করে সবার জন্য একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা।
এদিন বিকেলে এলাকায় পৌঁছালে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকরা তাকে সংবর্ধনা দেন। সরচাপুর ব্রিজ থেকে শুরু করে নাগলা বাজার ও ধারা বাজার হয়ে উপজেলা সদর পর্যন্ত হাজারো মানুষ তাকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেন। ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করে জয়ী হন সালমান ওমর।
