বুলবুল আহমেদ
জেলা প্রতিনিধি (নেত্রকোনা)
নগরায়নের ভিড়ে যখন কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে, তখনই নীরবে-নিভৃতে এক সবুজ বিপ্লবের বীজ বপন করেছেন বাহিরচাপড়ার উদ্যোক্তা সফিকুল ইসলাম। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “সফিকুল সব্জি খামার” আজ শুধু একটি বাগান নয় এটি স্বাস্থ্যনিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং আত্মনির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নেত্রকোনা পৌর এলাকার পুকুরিয়া মৌজায়, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পশ্চিম পাশে ১২০ শতাংশ পৈত্রিক জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই সবুজ সম্ভাবনার ক্ষেত্র। যার বি,আর,এস দাগ নং–২২৭৯ এবং আরওআর দাগ নং–২০৬৩ ভুক্ত জমিতে পরিকল্পিত উপায়ে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি ও দেশীয় সবজি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি লাউ, শসা, বেগুন,করলা , মরিচ, পুঁইশাক আর লালশাকের সবুজ সমারোহ। জমির প্রতিটি ইঞ্চিতে রয়েছে যত্নের ছাপ। উদ্যোক্তা সফিকুল ইসলাম ও সোহেল বাশার জানান, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য এলাকাবাসীকে কীটনাশকমুক্ত ও নিরাপদ সবজি সরবরাহ করা। বাজারে ভেজাল আর বিষাক্ত রাসায়নিকের ভিড়ে মানুষ যেন অন্তত আমাদের খামার থেকে টাটকা নির্ভেজাল সবজি পায়।”
খামারটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি। বর্ষা মৌসুমে চার মাস দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়, যা মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এভাবে একই জমিতে ফসল ও মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে টেকসই কৃষির এক কার্যকর মডেল।
খামারের চারপাশে আরও পৈত্রিক ভোগদখলীয় জমি থাকায় ভবিষ্যতে আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে খামারের পরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তারা।
এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন বাহিরচাপড়ার খায়রুল, রুকন, সোহরাব, মানিকসহ আরোও অনেকে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠছে একটি কৃষিনির্ভর সামাজিক উদ্যোগ, যা শুধু অর্থনৈতিক নয় ,স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কীটনাশকমুক্ত ও সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নেত্রকোনা খামার বাড়ি ও কৃষি অফিসের আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়তা পেলে এই ধরনের উদ্যোগ স্থায়ীত্ব লাভ করে।স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের খামারগুলো যদি আরও প্রসার লাভ করে, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতিপথ দেখাতে সক্ষম হবে।
বাহিরচাপড়ার মাটিতে তাই আজ শুধু সবজি নয় অঙ্কুরিত হচ্ছে বিশ্বাস, নিরাপত্তা আর সম্ভাবনার এক সবুজ স্বপ্ন। সফিকুল সব্জি খামার হয়ে উঠেছে প্রমাণ, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত। সফিকুল ইসলামের এই জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে এলাকাবাসীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
