মেঃ মোরশেদ মিয়া
প্রতিনিধি (গাইবান্ধা)

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু। একই দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতার ভিন্ন অবস্থান সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টি থেকেই দুজন প্রার্থী হওয়ায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও দ্বিধা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে, আবার কেউ কেউ নীরবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ দলীয় প্রতীককে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। আবার অনেকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় যোগাযোগ ও অতীত ভূমিকার কথা বিবেচনা করে রঞ্জুর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক ভাগ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

দলের এলাকার কয়েকজন সমর্থক বলেন, একজন দলের মহাসচিব, আরেকজন ভাইস চেয়ারম্যান—দুজনই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কিন্তু একজন স্বতন্ত্র হওয়ায় সাধারণ ভোটার বুঝতে পারছেন না, কাকে ভোট দিলে দল উপকৃত হবে। এতে করে ভোটের শেষ মুহূর্তে কী হবে, বলা যাচ্ছে না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে, সেটি দলের সাংগঠনিক ঐক্যে প্রভাব ফেলে। এতে একদিকে দলীয় ভোটব্যাংক ভাগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা লাভবান হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুজনের প্রার্থিতা থাকলে নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলবে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের কৌতূহল বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে, তা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বিপরীতে একই দলের ভাইস চেয়ারম্যানের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *