মোঃ মোরশেদ মিয়া
প্রতিনিধি (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মুন্সির হাট যমুনা নদী এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সূর্য ওঠার আগেই এবং সরকারি অফিস খোলার পূর্বেই বালু বিক্রি শুরু হয়, যাতে প্রশাসনের নজর এড়ানো যায়।
জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কাঁকড়া (ট্রাক্টর/গাড়ি) করে বালু বিক্রি হচ্ছে মুন্সির হাট যমুনা নদী ঘাট থেকে। এই অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সাঘাটা উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভূমি) অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে যমুনা নদীর ওই ঘাটে বালু জব্দ করেন এবং লাল পতাকা টাঙিয়ে ঘাটটি সিলগালা করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জব্দকৃত সেই বালুর ঘাটটি এখনো প্রভাবশালীদের দখলেই রয়েছে। লাল পতাকা টাঙানো থাকলেও সেখানে আগের মতোই বালু বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—
প্রশাসন কেন নীরব?
জব্দের পরও কীভাবে একই স্থানে অবাধে বালু বিক্রি চলছে?
কার প্রশ্রয়ে এত বড় পরিসরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?
নদী থেকে এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে নদীপাড়ের বসতভিটা ও ফসলি জমি। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মুন্সির হাট যমুনা নদীর অবৈধ বালু ঘাট উচ্ছেদ করে জব্দকৃত বালু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে এবং এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় “আসলে কে শোনে কার কথা”—এই প্রশ্নই থেকে যাবে সাধারণ মানুষের মনে।
