সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেছেন, রাস্তার পাশে পশুর হাট বসানো যাবেনা। দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু উৎপাদন হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু এলে দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই ভারত থেকে যেন দেশে গরু না আসতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার বিকাল ৩.০০ টায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আসন্ন ঈদ উল আযহা ২০২৩ উপলক্ষে পশুরহাট ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা’য় সভাপতিত্বকালে বিভাগীয় কমিশনার একথা বলেন।
প্রস্তুতিমূলক সভায় আসন্ন ঈদকে উপলক্ষ্য করে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় বিভিন্নমুখী দিকনির্দেশনা উঠে আসে এবং একই সঙ্গে কোরবানিকালীন যানজট নিরসনকল্পেও আলোচনা করা হয়। পশুহাটের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান, বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নকরণ কার্যক্রম পরিচালনা, কোরবানির হাটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি, পশুহাট ব্যবস্থাপনা, কোরবানিকালীন যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
কোরবানিকালীন যানজট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রধান সড়কে বাস দাঁড়ানো বন্ধ করতে হবে। শম্ভুগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মোড়, বাইপাস মোড়সহ নগরীর উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলোতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা বন্ধ করতে হবে। এ সকল পয়েন্টগুলোতে যাত্রী উঠানামায় সাইনবোর্ড ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। মোড়ের আশেপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। শম্ভুগঞ্জ টোলপ্লাজা ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন টোল ফ্রি করে দিতে হবে। মালিক শ্রমিক কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে ড্রাইভারদের ঠিকভাবে গাড়ি চালাতে মোটিভেট করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, কোরবানির চামড়া সংগ্রহে ময়মনসিংহে লবনের পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ২৩২৪ জনকে কসাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং গরুর চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম পশু হাটের জন্য থাকবে।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য সভায় আলোচনাকালে বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৪০৯ হাটের বেশি হাট যেন না বসে তা নিশ্চিত করতে হবে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও জাল টাকা প্রতিহতে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান কোরবানির ২৪ ঘন্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুরের জেলা প্রশাসকগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন এবং ময়মনসিংহের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিস প্রধানগণ, মালিক শ্রমিক কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
