বার্তা ডেস্কঃ
সম্প্রতি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গন্ডাবেড় গ্রামে সংঘটিত এক ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশীদ মামুন। পেশাদারিত্ব ও বস্তু নিষ্ঠতায় পরিপূর্ণ এই সংবাদে উঠে আসে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গ্রাম বাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার নগ্ন বাস্তবতা। সংবাদটিতে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করেই কেবল ঘটনা, প্রেক্ষাপট ও ন্যায়ের দাবি তুলে ধরা হয়। অথচ এর পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার, বিকৃত উপস্থাপন ও সাংবাদিকের চরিত্র হননের অপচেষ্টা। এই প্রেক্ষিতে সংবাদকর্মী শেখ মামুনুর রশীদ মামুনের জ্বালাময়ী প্রতিক্রিয়া আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়—আজও সত্য বলার দায় কতটা ভারী! তিনি লিখেছেন:> “যেখানে অন্যায়, সেখানে প্রতিবাদ। যেখানে অনিয়ম, সেখানে প্রশ্ন। আর যেখানে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন, সেখানে একটি কলমের শব্দ হয়ে ওঠে অসহায়ের শেষ আর্তনাদ।”এই একটিমাত্র বাক্যেই যেন প্রতিফলিত হয়েছে সাংবাদিকতার প্রকৃত চেতনাঃ জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, কারও নাম টেনে নয়—তিনি শুধু দুর্নীতির চিত্র, অন্যায়ের কাঠামো, এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্ট তুলে ধরেছেন। তারপরও কেন এই হামলা? এই ভয়? কারণ, অপরাধীরা জানে—সত্য বলার শক্তি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তার কলমের ভাষায় আমরা পাই সেই আগুনঝরা উচ্চারণ, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। তিনি বলেন:
> “মুক্তিযুদ্ধে অনেকেই হাতে তুলে নিয়েছিল অস্ত্র, জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন দেশের জন্য। আর সেই লড়াইয়ের সঙ্গে একসাথে কলমও চলেছে, কণ্ঠ থেকেছে উচ্চকিত, আগুন ঝরেছে শব্দে শব্দে। সেই উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে আমি লিখেছি, আবার লিখবো।”এই উক্তিতে ফুটে উঠেছে সেই শক্তি ও প্রত্যয়, যা একজন সৎ সাংবাদিককে ভীত নয়, বরং আরও দৃঢ় করে তোলে। তিনি যেভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন রাষ্ট্র ও সমাজের উদ্দেশ্যে—তা কেবল ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং সামগ্রিক সাংবাদিকতার অস্তিত্ব সংকটের প্রতিধ্বনি। তাঁর লেখনীতে ছিল না হিংসা, ছিল না বিদ্বেষ—ছিল কেবল সত্য। অথচ সেই সত্যই আজ আঘাত হানছে অপরাধীদের অন্তরে, আর তারা ঘৃণার মিথ্যা ঢেউয়ে ডুবিয়ে দিতে চাইছে সাংবাদিকতার মর্যাদা। এই কলাম তাই শুধু একটি প্রতিবাদের ভাষা নয়, এটি এক ঐতিহাসিক স্মারক—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে, কীভাবে কিছু কলম বেঁচে থাকে সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এই বক্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত সততা ও গণতন্ত্রের চর্চায় এক মূল্যবান সংযোজন।
আমরা, পাঠক ও সমাজ হিসেবে, এই সাহসী উচ্চারণের পাশে থাকি—যেখানে সত্যকে আক্রমণ করা হয়, সেখানে যেন আরও শত কলম উঠে দাঁড়ায়, কারণ: “আমার কাছে ক্ষমতা নেই, আছে কলম। আমার হাতে বন্দুক নেই, আছে সাহস।
আর সেই সাহসই বলে—
সিন্ডিকেট নয়, সত্যিই হবে শেষ কথা।”

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *