নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখা আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০১৮’ বাতিল করে “ডিজিটাল সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪” জারি করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার সাথে বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা। এই অধ্যাদেশে জনগণের মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়সমূহ সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তাড়াহুড়া করে আগের আইনের নানা বিতর্কিত ধারা বহাল রেখে নতুন কিছু জিনিস যুক্ত করে একটি জগাখিচুড়ি অধ্যাদেশ তৈরী করা হয়েছে বলে বক্তারা বলেন।
গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখার কার্যালয় ভোকেশনাল মোড়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মাসুম ফেরদৌস জুয়েলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মানবাধিকারকর্মী সাংবাদিক
সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল। বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ ছবির খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিম হোসেন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুল ফেরদৌস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সুজন আহাম্মেদ শফিকুল প্রমূখ।
সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতির সংস্থার বিভিন্ন মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এই আইনের বেশ কিছু ধারা সেগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুসহ যাদের সুরক্ষার জন্য এই আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, নতুন এই অধ্যাদেশটি তৈরী করার সময় তাদের সাথে কোনো কথা বলা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সাইবার নিরাপত্তা আইন দিয়ে যেসকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে তার বেশিরভাগই এখনো প্রত্যাহার করা হয় নি, যদিও অনেক উপদেষ্টা ও বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আমলারা সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করছে বলেই এরকম বাজে ও গণবিরোধী একটি অধ্যাদেশ সামনে আনা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে পুলিশের হাতে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারি ক্ষমতা দেওয়া। এর মাধ্যমে পুলিশকে সাধারণ জনগণকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ইচ্ছা করলেই যে কারো মোবাইল তল্লাশি করতে পারবে যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার লঙ্ঘন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, জামালপুর জেলা শাখার শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, কয়েক হাজার জীবনের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে এবং তার ধারাবাহিকতায় যে নতুন সরকার এসেছে, তাদের কাছ থেকে এরকম একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অধ্যাদেশ কোনোভাবেই আশা করা যায় না। কোনোভাবেই এই অধ্যাদেশ চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করা যাবে না। মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকল নাগরিকের মতামত নিয়ে নতুন করে সাইবার জগতে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা অধ্যাদেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। খসড়া অধ্যাদেশটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
