যশোর প্রতিনিধি
বিশৃঙ্খলার চরমে পৌঁছেছে যশোর জেনারেল হাসপাতালে যা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নামে পরিচিত। যেখানে স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তে মিলছে দূর্ভোগ, স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে মিলছে অস্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত পাওয়া যায়না ডাক্তার, নার্স আর ওয়ার্ডবয়দের সেবা, যদিওবা পাওয়া যায়, বিনিময়ে গুনতে হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
আজ সোমবার (১৯শে আগস্ট) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেলো হাসপাতালে রোগীর তুলনায় বেডের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। অধিকাংশ রোগীর জায়গা হয় অস্বাস্থ্যকর মেঝেতে যার তোষক-বালিশ, পাটি রোগীর স্বজনদেরই সংগ্রহ করতে হয়। রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায় অনেকেই দীর্ঘদিন এভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছে। জনৈক রোগীর স্বজনের ভাষ্যমতে পুরো ১১ দিন মেঝেতে থাকার পর একজন ওয়ার্ডবয়কে কিছু টাকা দিলে বেডের ব্যাবস্থা হয়। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুন অর রশীদ জানান,”এই অচলাবস্থার মূল কারণ বেডের অপ্রতুলতা। অতিসত্বর হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ না করলে এই সমস্যা আরও বাড়বে।”

দুপুরে খাবারের সময় গিয়ে দেখা যায় খাবার মানসম্মত নয় এবং পরিমাণে অপর্যাপ্ত। অধিকাংশ রোগীর স্বজনদের খাবার বাইরে থেকে এনে রোগীদেরকে খাওয়াতে হয়। এ ব্যাপারে হাসপাতাল তত্বাবধায়ক জানান,”খাবার নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, বিষয়টি খুবই স্পর্শ কাতর।”

দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে মহিলা ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড, করোনারী ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। ঐ সময় ছিলোনা কোন ডিউটি ডাক্তার, ইন্টার্নি ডাক্তার দিয়ে চলছিলো সেবা। নার্স ও ওয়ার্ডবয় ছিলোনা পর্যাপ্ত সংখ্যক, অনিয়মিত সেবক ছিলো কয়েকজন, যাদের নিয়মিতকরণ না করায় কোন বেতন ভাতা ছাড়াই শুধু রোগীর স্বজনদের দেয়া বখশিশের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। এ ব্যাপারে হাসপাতাল তত্বাবধায়ক জানান, “দুপুরে খাবার বিরতিতে কেউ কেউ অনুপস্থিত থাকলেও, পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই। আর সেবকদের নিয়মিত করণের ব্যাপারটি অবশ্যই বিবেচনায় আছে তবে এটি সময়সাপেক্ষ।” তবে তত্বাবধায়ক আরও জানালেন,”পূর্বের চেয়ে অনেক শৃঙ্খলা ফেরাতে পেরেছেন তিনি, এর আগে হাসপাতালের বিশৃঙ্খলা আরও বেশী ছিলো, বর্তমানে সে তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, বাকিটুকুও সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।”

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *