স্থানীয় প্রতিনিধি
ফরিদপুর সদর উপ‌জেলার ডি‌ক্রিরচর ইউ‌নিয়‌নের পালডা‌ঙ্গি গ্রামে পদ্মা নদীর ভাঙ‌নে এক রাতে ১০/১২‌টি বা‌ড়ি-ঘর বিলীন হ‌য়ে‌ছে।

স্খানীয়রা বল‌ছেন, বৃহস্প‌তিবার রাতে ধলার মোড় সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এ ভাঙন শুরু হয়েছে।

শহর রক্ষা বাঁধ-সংলগ্ন পালডা‌ঙ্গি গ্রা‌মের বা‌সিন্দারা ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

ভাঙ‌নে ক্ষ‌তিগ্রস্থরা কোনো রক‌মে প্রা‌ণে বাঁচ‌লেও মালামাল রক্ষা কর‌তে পা‌রেন নি। ফ‌লে তারা নিঃস্ব হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছেন।

স্থানীয়রা ওই বালুদস্যুদের ব্যবহৃত এক‌টি এক্সকেভেটর ( বেক‌্যু) আটকে এভাবে বালু তোলার প্রতিবাদ জানা‌লে তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বসতবা‌ড়ি ভাঙনের কবলে পড়ায় তারা চরম ক্ষোভ জানান।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে বেক‌্যু দিয়ে শহররক্ষা বাঁধ ঘেষে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর করে বালু তুলে নদীর পা‌ড়ে মজুদ ও প‌রে ট্রাকে ক‌রে বিক্রি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শহররক্ষা বাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় পানির ঘুর্ণি ও স্রোতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়।

এর ফ‌লে ওই রা‌তেই পালডা‌ঙ্গি গ্রা‌মের আফজাল শেখ, মজলু শিকদার, মো: হাসান মাস্টার, বাদশা শেখ, সাহেব শেখ, আলী, দেলোয়ার শেখ, সাদ্দাম শেখ, সালাম শেখ, জাহানারা বেগমের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হ‌য়ে যায়। বাড়িঘর ছাড়াও বাঁশবাগান ও গাছপালাও পানিতে ধসে গেছে। ভাঙন শহর রক্ষা বাঁধের কা‌ছে চলে এসেছে।

ভাঙ‌নে ক্ষ‌তিগ্রস্থ হাসান মাস্টার বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় পদ্মা নদীতে ঘরবাড়ি হারানোর পরে আমরা স্থানীয় প্রশাস‌নের অনুম‌তি নি‌য়ে শহর রক্ষা বাঁধের এপা‌শে সরকারি জমিতে বা‌ড়ি তু‌লে বাস কর‌ছি।তি‌নি ব‌লেন, স্থানীয় আজম নামে এক ব্যক্তি এখানে ড্রেজার মেশিন দি‌য়ে নদী থে‌কে অবৈধভাবে বালি তুলে বিক্রি করছে। শহর রক্ষা বাঁধ-সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু তোলার কারণে আমাদের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করায় হুমকি দিচ্ছে।

ওই এলাকার আফজাল শেখ বলেন, রাতের বেলায় বেক‌্যু দি‌য়ে লেয়ার ধরে ধ‌রে বালু তুলে নিয়ে যায়। তার জন্য আমাদের ঘর-দুয়ার সব ভাইঙ্গ্যা নিয়ে গেছে। সব ভাইঙ্গ্যা নিয়ে গেছে।

মজনু শিকদার বলেন, শহর রক্ষা বাঁধ থেকে দেড়শ’ ফুট জায়গা সরকারের। আমরা প্রায় ৫০টি পরিবার এখানে বাস করি। এই সরকারি জায়গা থে‌কে ৫০ ফুট গভীর করে বালু তুলে নিয়েছে। এভাবে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এখন এই শহর রক্ষা বাঁধও ভাঙার ঝুঁকিতে র‌য়ে‌ছে। যে কো‌নো সময় বাঁধে ভাঙন শুরুর আশঙ্কায় উ‌দ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ওর‌ফে মিন্টু ফকির বলেন, অনেকদিন ধরে তারা মানুষের ক্ষতি করছে। যখন আমরা অভিযোগ দেই, তারপর দুই তিনদিন হয়ত বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়। আর মাত্র চারপাঁচ ফুট ভাঙলেই শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন ধরে যাবে।

এ ব‌্যাপা‌রে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থপ্রতীম সাহা বলেন, খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হবে।‌তি‌নি ব‌লেন, ওই জায়গা থে‌কে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *