রেজাউল করিম রেজা
ত্রিশাল সরকারী নজরুল কলেজের প্রভাষক মাসুদ রানা, প্রভাষক আজিজুর রহমান ও প্রভাষক রাকিবুল হাসান গত ১৪ আগষ্ট ২০২৩, ১৫ আগষ্ট ২০২৩,২৩ আগষ্ট ২০২৩ ও ৩০ আগষ্ট ২০২৩ ইং তারিখে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচার নিয়ে,বিএনপি- জামাতের পক্ষে তাদের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ্যে সরকার বিরোধী অপপ্রচার করেন।
প্রভাষক মাসুদ রানা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সুপারিশে চাকরি নিয়েছেন।
বাবরের বাড়ি ও প্রভাষক মাসুদ রানার বাড়ি একই গ্রামে। এ বিষয়ে কলেজে একজন সহকারী অধ্যাপক বাদী হয়ে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, সচিব,গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বরাবরে অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ৬/১১/২৩ ইং তারিখে স্বারক নং- ২৩৫৮, ময়মনসিংহ মাউশি’র পরিচালককে দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।
মাউশি’র, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফেরদৌস সাহেব কে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় ৭ মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ডিভাইস এবং মোবাইল জব্দ করতে পারেনি ও সিআইডির কাছেও পাঠায়নি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আদালতের নির্দেশনা ছাড়াই তদন্ত কাজে সহায়তার নামে সকল স্টাফের মোবাইল জব্দ করে বহিরাগত এক লোকের মাধ্যমে সকলের মোবাইল থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ছবি ও ভিডিও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হেফাযতে নিয়ে যান। যা আইসিটি আইনের বড় অপরাধ। এ বিষয়ে কলেজের একজন স্টাফ ফরহাদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে লিখিত জবাব ছেড়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী জামানতপন্থী শিক্ষকদের পক্ষ নেন। অভিযুক্ত শিক্ষকদেরকে রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। গোপনে করছেন বৈঠকও । এদিকে এই জামাতপন্থী শিক্ষকদের কলেজের বিল্ডিংয়ে বিদ্যুৎ ও পানি খরচ করে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য করার সুযোগ করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
মাউশি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফেরদৌস সাহেব জানান, আমি ত্রিশাল সরকারি নজরুল কলেজে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। এখনও অভিযোগের তদন্ত চলছে। ফেরদৌস সাহেবের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে সকল শিক্ষকগণ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? ফেরদৌস সাহেব বলেন, এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বলা যাবে। তবে তারা কাজটি ভাল করিনি। এবিষয়ে মাউশি’র ডিজি নেহাল আহমেদ জানান,আমি তদন্তের জন্য ময়মনসিংহের পরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছি। এখনো তদন্ত চলছে। তবে আমরা তদারকি করছি।
এ ঘটনা তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আবার সরকারী নজরুল কলেজ ত্রিশালের আরেকটি ঘটনা আলোচনায় আসে। কলেজের মার্কেট বরাদ্দ, ভাড়া উত্তোলনের পুকুরচুরি, ভুয়া ভাউচারে বিল উত্তোলন, হিসাবে গরমিল, পান সিগারেট খেয়ে ডিম রুটির নামে বিল উত্তোলনসহ নানা দুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা । ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার পরেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মীরা নিরব ভুমিকা পালন করছেন। আরও এটি ধামাচাপা দিতে প্রতিনিয়ত কলেজের ভিতরে বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে পরামর্শ করছেন। আমার প্রশ্ন হলো,যদি অভিযোগটা মিথ্যা হয় তাহলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন ? কিন্তু ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত দেরী কেন? তাদের খুঁটির জোর কোথায় ? এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ফেইসবুকের অপপ্রচারের স্ক্রিনশট সহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন এক ব্যক্তি।
