লুৎফর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ছিট হিলকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস আলী মন্ডলের ছেলে মীর শহিদ বাবু। সে স্যানিটারি মালামাল তৈরির কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। শত অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও সে একটি স্বপ্ন লালন করেছিল। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। স্বপ্নের বাস্তব রূপ জয়পুরহাট জেলায় একমাত্র পার্কিং টাইলস তৈরির কারখানা নির্মাণ হয়েছে জয়পুরহ স্যানিটারি। সমগ্র জয়পুরহাট জেলা ও উপজেলার পার্কিং টাইলস এর চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের জেলাতেও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই সফল উদ্যোক্তার তৈরি পার্কিং টাইলস্সহ অন্যান্য জিনিসপপত্রও। ব্যবসায় এখন তার বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তার যাত্রা খুব ভালো ছিল না। সে ছিল অত্যন্ত গরীব পরিবারের সন্তান। সেহেতু পড়ালেখা করে বেশীদুর এগানো সম্ভব হয়নি তার। অতি অল্প বয়সে সে স্যানিটারি মালামাল তৈরির কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। উক্ত কারখানায় কাজ করতে তার সময় কেটে গেছে ১৮টি বছর। এক সময় সে চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসা বানিজ্য করার। কিন্তু বড় সমস্যা হলো তার অর্থ, পাবেই বা কোথায়; এ মর্মে সে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) অফিসারের কাছে পরামর্শ নিতে গেলে উক্ত অফিস কর্মকর্তা তাকে উন্নয়ন করার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে অফিস থেকে ঋণ নেওয়ার কথা বলেন। তারপর সে অত্র বিআরডিবি অফিস থেকে ২০১৭ ইং সালে প্রথমতঃ ১৫ হাজার টাকা ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে এবং ঋণের টাকার সাথে তার কিছু জমানো টাকা দিয়ে নিজেই একটি স্যানিটারি মালামাল তৈরির কারখানা স্থাপন করে এর সাথে সংযোগ হলো পার্কিং টাইলস। এখান থেকেই শুরু হয় তার আয় উন্নতি। ধীরে ধীরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পার্কিং টাইলসের সুনাম। তার কারখানায় দৈনিক পার্কিং টাইলস উৎপাদন হয় ৫ শতাধিকেরও বেশি। সফল উদ্যোক্তা মীর শহিদ বাবু’র কারখানায় বর্তমানে নিয়মিত কাজ করেন ৮ জন শ্রমিক। তার পরিকল্পনা রয়েছে উক্ত কারখানার সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাইলস্ উৎপাদন করার। সফল উদ্যোক্তা মীর শহিদ বাবু স্বপ্ন দেখেন দেশ—বিদেশে পার্কিং টাইলস্ রপ্তানী করার। সে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরণ করে বলেন অত্র বিআরডিবি অফিস থেকে ঋণ না পেলে ব্যবসা শুরু করা মোটেই আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। বর্তমানে সে বিআরডিবি কার্যালয় থেকে ২৭ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছেন এবং আরো ১ লক্ষ টাকা এসএমই ঋণের জন্য আবেদন করেছেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মো: আসাদুল ইসলাম বলেন, মীর শহিদ বাবু কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার কারণে আজ সে সফল সম্ভবনাময় উদ্যোক্তা। তার ব্যবসার উন্নয়নে বিআরডিবি পাশে ছিল এবং থাকবে। এছাড়াও কর্মকর্তা জানান যে তার এসএমই ঋণের আবেদনটি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এক সময় মীর শহিদ দিন হাজিরা শ্রমিক ছিল এখন সে তার পরিবার নিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবন যাপন করছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও তার ব্যবসায় নিয়োজিত করেছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *