বিশেষ প্রতিনিধি

ভালুকা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের কয়েকটি স্থানে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হয়। চার লেন চালুর পর এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনের দুর্ভোগ হয়। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে বসতে শুরু করেন অস্থায়ী দোকানিরা। ওই চার লেন সড়কের এক লেন করে দুই পাশে যান চলাচল করে। বাকি রাস্তাসহ ফুটপাত দখলে থাকে দোকানি ও ক্রেতাদের। এতে শুরু হয় যানজট। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ।

উপজেলার সীডস্টোর ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে দোকানগুলো বসতে শুরু করেছে। কারও কারও পণ্য সাজানোর কাজ শেষ, আবার কেউ কেউ সাজাচ্ছেন। পাশেই শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন প্রকার ফলের দোকান। এর মধ্যেই সড়কে থেমে থেমে যানজটও তৈরি হতে শুরু করে।

দোকানি, ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সীডস্টোর বাসস্ট্যান্ড ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী দোকানিরা বসছেন। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে রাস্তাটি সরু হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতিদিনই বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থেমে থেমে যান চলাচল করে। অনেক সময় রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। উপজেলার ৮০ ভাগ শিল্পকারখানাই সীডস্টোর ও

মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ফুটপাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকায় সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের বাসায় ফিরতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক হকার জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা স্থানীয় প্রভাবশালীব্যক্তিদের দোকান ভাড়া বাবদ টাকা দিয়ে থাকেন। টাকা না দিলে ‘সিস্টেমে সরিয়ে’ দেওয়া হয় তাদের। অনেক বড়ব্যবসায়ীও টাকা নিয়ে হকারদের বসতে দেন আবার অনেকে কর্মচারী দিয়ে নিজেরাই করেন ব্যবসা।

কয়েকজন পথচারীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, ফুটপাতের দোকানপাট, রাস্তার অবৈধ পার্কিং এর জন্য চলাচল করতে অসুবিধা হয়। মাঝেমধ্যেই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, দ্রুত যাতে ফুটপাতের এইসব দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাত ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

সড়কে পণ্যের নিয়ে বসার বিষয়ে জানতে চাইলে অস্থায়ী দোকানি মো. মোবারক মিয়া বলেন, সড়কের মধ্যে বেচাকেনা ভালো জমে। জামানত দিয়ে স্থায়ী দোকান নেওয়ার মতো টাকাও তাঁদের নেই। তাই রোদ, বৃষ্টির মধ্যেও পণ্য নিয়ে রাস্তার পাশেই বসেন।

মহাসড়কে দোকানিদের বসার বিষয়ে ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতাউর জানান প্রতিদিন সকাল বিকাল মহাসড়কের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় মহাসড়কে দোকানিদের বসার বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, আমি মহাসড়কে অবৈধ দোকানপাট দেখি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মহাসড়কে দোকানিদের বসার বিষয়ে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান,এক সপ্তাহ পরে মহাসড়কে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *