স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মহামান্য হাইকোর্টের ১৬৬/২০২০ সালের রীট পিটিশন আদেশ অমান্য করে উচাখিলা বটতলা এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিনে কার্গো ও নৌকা করে ও লোকালয়ে বোরিং করে প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি মহল। তবে যার মাধ্যমে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে রিট জারী করেন তারই নেতৃত্বে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন অদৃশ্য কারণে নিরব ভুমিকায় এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ভাঙ্গন রোধে এলাকার বাড়ী-ঘর রক্ষায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় জিও ব্যাগ দিয়ে করা বেড়ীবাধ ভেঙ্গে পড়াসহ ফসলী জমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগে রয়েছে।চলতি অর্থ বছরে ঈশ্বরগঞ্জ তথা ময়মনসিংহ জেলায় কোন বালু মহল ঘোষণা না হলেও উচাখিলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যহত রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চররামমোহন গ্রামের নিকটবর্তী বটতলা বালুঘাটে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে
ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ভাঙ্গন রোধে এলাকার বাড়ী-ঘর রক্ষায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় জিও ব্যাগ দিয়ে করা বেড়ীবাধ ভেঙ্গে পড়াসহ ফসলী জমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ায় এর আগে উজানচরণও পাড়ার আব্দুল কাদির এর পুত্র রফিকুল ইসলাম উচ্চ আদালতে বালু উত্তোলন বন্ধে আবেদন করলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০২০ সালের ২২ শে জুন মহামান্য হাইকোর্ট বটতলা বালুঘাট বন্ধ রাখার আদেশ দেন যার রিট নং-১৬৬। কিন্ত ক্ষমতার পালাবদলের পর রিটকারী সেই রফিকুল ইসলাম নিজেই মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে স্থানীয় রাজিবপুর এলাকা রুহল আমিনের পুত্র মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ আল মামুন,রজব আলীর পুত্র মোঃ ফরিদ মিয়া, মোঃ মারফত আলীর পুত্র মোঃ জাহেদ আলী, মোঃ শামছুদ্দিনের পুত্র মোঃ আল আমিন,হাসেম মাষ্টারের পুত্র মোঃ রিপন মিয়া,হাসমত আলীর পুত্র ইসরাফিল মিয়া,উচাখিলা এলাকার আহাম্মদ আলীর পুত্র মোঃ হাবিবুর রহমান হবি,চরআলগি গ্রামের উছমান আলীর পুত্র মোঃ রতন গং দের সাথে নিয়ে হাইকোর্টের রিটে বন্ধ হওয়া সেই বালুঘাটে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে।

বটতলা এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা রাতে থেকে শুরু করে সারারাত ব্রহ্মপুত্র নদের উচাখিলা বটতলা ভাঙ্গন এলাকা থেকে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার মেশিনে বড় বড় কারগো করে বালু উত্তোলন অব্যহত রেখেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব রহেছেন।

তারা মন্তব্য করেন-হাইকোর্টের রিট অমান্য করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার পরও তারা নিরব থাকায় এতে প্রমাণিত হয় উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত।

আরও বলা হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ভাঙ্গন রোধে এলাকার বাড়ী-ঘর রক্ষায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় জিও ব্যাগ দিয়ে করা বেড়ীবাধ ভেঙ্গে পড়াসহ ফসলী জমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ায় টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এব্যাপারে স্থানীয়দের পক্ষে মিজান নামে একজন লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের বিষয়টি

জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আজিম উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে বর্তমানে কোন বালু মহলের দাগ নেই। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। তার কাছে রিটে বন্ধ থাকা বালুঘাটে হাইকোর্টের রিট অমান্য করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষে মিজান নামে একজন একটি লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগ আমলে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আজিম উদ্দিন তাৎক্ষণিক এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর সুপারিশে সহকারী কমিশনার ভূমি মো: রিয়াদ হোসেনকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং বন্ধ না করলে রিট অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

এদিকে রফিকুল ইসলাম নিজেই বালু উত্তোলনের বিষয়টি বন্ধ রাখতে মহামান্য হাইকোর্টে আবেদন করার পর আদালত তার আবেদনের প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর সে নিজেই কিভাবে আইনকে অমান্য করে তার নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে বালু উত্তোলন করছে এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা। আইনকে খেলার পুতুল হিসাবে ব্যবহার করায় স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মোলক শাস্তির দাবীও জানিয়েছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *